জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে গৃহীত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প


প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে গৃহীত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জয় লাভের পরই এ বিষয়ক পরিকল্পনা শুরু করেছের তার সহযোগীরা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।





 

চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। ২০১৭ সালে প্রথমবার ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একপ্রকার ‘শাস্তি’। এর কারণে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারাচ্ছে। এরপর মেয়াদের শেষ দিকে ২০২০ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফেরান।

 
আবারও সেই পথেই হাঁটছেন ট্রাম্প যেমনটা পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন মতে, এক্সিকিউটিভ অর্ডার তথা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতেন পারেন ট্রাম্প। তার ট্রানজিশন টিম তথা ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহযোগী দল এরই মধ্যে নির্বাহী আদেশ প্রস্তুত করে ফেলেছে।
 
প্রতিবেদন মতে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার পাশাপাশি নতুন করে তেল ও খনিজ দ্রব্য উত্তোলনে অনুমতি দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির স্থগিতাদেশও তুলে নিতে পারেন। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বৃহৎ বাজারে রফতানির নতুন অনুমোদন আসতে পারে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য রাজ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কঠোর আইনও শিথিল করতে পারেন তিনি।
 
 
নির্বাচনি প্রচারণাকালে এসব পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার ট্রানজিশন টিমের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভের কারণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন তিনি। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন।
 
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসন নতুন এলএনজি রফতানি অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা সম্পন্ন করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বছরের শেষের আগেই এই গবেষণার খসড়া জনমত যাচাইয়ে ৬০ দিনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
 
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ট্রানজিশন টিমের কিছু সদস্য পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার সদর দফতর ওয়াশিংটন থেকে সরানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
 
 
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লক্ষ্যে ইতিহাসের প্রথম কোনো বৈশ্বিক চুক্তি যা ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্বের দুইশটির মতো দেশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে একমত হয় যাকে অনেক পর্যবেক্ষকই ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে বর্ণনা করেন।
 
১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকলে হাতে গোনা কয়েকটি দেশকে ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ ঠেকানোর লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। কিন্তু সেই প্রটোকল থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বাকিরাও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতাকে কাটিয়ে উঠতে নতুন লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।
 
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো হল-বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনা, গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
 
 
এছাড়া প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতেও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

Post a Comment

0 Comments