উ. কোরিয়া-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পশ্চিমাদের কেন উদ্বেগ?

 

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মূল লক্ষ্য যেমন, তেমনই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া। চুক্তিটি এরই মধ্যে আইন হিসেবে অনুমোদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।


ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের ওপর হামলা হলে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই অবস্থান থেকেই হামলাকারী দেশকে এক সঙ্গে মোকাবিলায় অর্থাৎ যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য ন্যাটোর সব সদস্য দেশ। 

 
পিয়ংইয়ং ও মস্কোর চুক্তিটিও ঠিক সেরকমই। কিন্তু এরপরও এটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। প্রশ্ন হল, কী আছে ওই চুক্তিতে, আর কেনইবা পশ্চিমাদের জন্য উদ্বেগের?
 
কী আছে চুক্তিতে
 
চলতি বছরের ১৯ জুন পিয়ংইয়ং সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই সফরকালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি সই করেন তিনি। 
 
চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়া কোনো একটি দেশ যদি কোনো ধরনের হামলা বা হুমকির সম্মুখীন হয় তবে যেকোনো উপায়ে একে অপরকে সামরিক সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবে।
 
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর পুতিন তখন প্রতিরক্ষা চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন। সেইসঙ্গে এরমধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বা ধাপ হিসেবেও উল্লেখ করেন পুতিন।
 
চুক্তিতে ‘ন্যায্য ও বহুমুখী নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠায় পারস্পারিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ অনুসন্ধান, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ প্রচেষ্টা জোরদার করার বিষয়ে আলোকপাত হয়েছে।
 
 
প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আইনে রূপদান
 
ওই চুক্তিকে আইনে রূপ দিয়েছে রাশিয়া। গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে চুক্তিটি অনুমোদন পায়। আর গত ৬ নভেম্বর অনুমোদন করে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ।
 
এর আগে পুতিন এ বিষয়ে একটি ডিক্রি সই করেন। সেই ডিক্রি ৩ নভেম্বর সরকারি একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আর সবশেষ ১২ নভেম্বর উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে কিম জং উন সরকার।
 
এখন কেন আলোচনায়?
 
ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই গেল কয়েক মাসে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া পারস্পারিক সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। 
 
আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেইনের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা রুশ হামলাস্থলে এই অস্ত্রের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি জেলেনস্কি বাহিনীকে পরাস্ত করতে রাশিয়ার হয়ে লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সেনা পাঠিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
 
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের দাবি ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অন্তত ১১ হাজার সেনা পাঠিয়েছে কিম জং উন সরকার।
 
 
সবশেষ ১১ নভেম্বর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, কুরস্কে উত্তর কোরিয়ার সেনাসহ অন্তত ৫০ হাজার সেনা জড়ো করেছে রাশিয়া। আর উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতিতেই সামরিক চুক্তিকে আইনে পরিণত করে মস্কো ও পিয়ংইয়ং।
 
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইউক্রেন ও উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মধ্যে ছোট আকারের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। রাশিয়ার কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থানরত উত্তর কোরিয়ার সেনাদের লক্ষ্য করে ইউক্রেনের সেনারা কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করেছে।
 
রাশিয়াকে সাহায্যে করতে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন ইউক্রেনে প্রায় তিন বছরের সংঘাতকে আরও রক্তক্ষয়ী করে তুলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
 
পশ্চিমাদের উদ্বেগ কেন?
 
ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে সম্প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। জেলেনস্কি বাহিনীকে সহায়তা অব্যাহত রাখলে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
 
পশ্চিমারা ইউরোপ মহাদেশকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চায় উল্লেখ করে এ ধরনের পদক্ষেপকে আত্মঘাতী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কিম সরকার।
 
 
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমাদের প্রতি উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সামরিক চুক্তি বা পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা জানালেন কিম জং উন ও ভ্লাদিমির পুতিন। চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে একে অপরের প্রতি তারা দায়বদ্ধ।
 
এখন পর্যন্ত ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সেনা পাঠানোর কথা স্বীকার করেনি। তবে এখন যেহেতু প্রতিরক্ষা চুক্তিকে দুই দেশই আইনে রূপ দিয়েছে তাই যে কোনো মুহূর্তে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া। 
 
এছাড়া উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, উত্তর কোরিয়া ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাশিয়ার কাছে ১৩ হাজারের বেশি কন্টেইনার আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রচলিত অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
 

আরও সময় সংবাদ
সম্পূর্ণ নিউজ সময়
০ টা ২৬ মিনিট, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ ক্লাবে পোপ ফ্রান্সিস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে ইতালির রোমে ‘পোপ ফ্রান্সিস-ইউনূস থ্রি জিরো ক্লাব’ চালু করেছেন খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

তাজওয়ার মাহমিদ

২ মিনিটে পড়ুন

‘থ্রি জিরো’ ক্লাব রোমের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এটি তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা বিকাশ এবং টেকসই সমাধানের একটি প্ল্যাটফর্ম দেবে।

 
রোমের ভিকার জেনারেল কার্ডিনাল বাল্ডো রেইনাকে লেখা একটি চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি এই উদ্যোগের জন্য সম্মানিত। একইসঙ্গে তিনি রেইনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
 
এক বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেন, এই অসাধারণ উদ্যোগটি মহামান্য পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে একটি রূপান্তরমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য আমার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্ট করে।
 
 
তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি শুধু শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্য নয়; বরং একটি নতুন সভ্যতার উত্থানকে উৎসাহিত করার আকাঙ্ক্ষাও রাখে।
 
তিনি আরও বলেন, এমন একটি সভ্যতাই কাউকে পিছিয়ে রাখা উচিত নয়, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তার নিজের ভাগ্য ফেরাতে পারে। এমন একটি মানব পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে গর্বিত।
 
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি পোপ ফ্রান্সিসের অটল প্রতিশ্রুতি এবং সোশ্যাল বিজনেসের প্রতি আমার বিশ্বাস, থ্রি জিরো ক্লাবের তরুণদের এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে উৎসাহিত করবে যা অর্থপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
 
 
পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবাইকে একত্রে এই রূপান্তরমূলক যাত্রা শুরু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
 
সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে, সারা বিশ্বে অন্তত ৪ হাজার ৬০০টি থ্রি জিরো ক্লাব রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত।

আরও সময় সংবাদ

Post a Comment

0 Comments